উইন্ডোজের 6টি প্রয়োজনীয় হিডেন ইউটিলাইটি টুলস
আমরা যারা ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি, অধিকাংশই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি। উইন্ডোজ ৭, উইন্ডোজ ৮ অথবা উইন্ডোজের প্রতিটি ভার্শনেই কিছু লুকানো সিস্টেম ইউটিলাইটিস টুলস আছে যেগুলো প্রয়োজনীয় এবং বেশ ভালোই কাজে দেয়। এই লুকিয়ে থাকা টুলস গুলোর মাঝে বেশির ভাগ টুলস গুলোই আপনি স্টার্ট মেন্যু থেকে সার্চের মাধ্যমেই পেয়ে যাবেন যদি কিনা আপনি সেই সিস্টেম ইউটিলাইটিস টুলস গুলোর নাম জেনে থাকেন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ৮ এর ক্ষেত্রে আপনাকে হয়তো প্রথমে আপনাকে সেটিংস ক্যাটাগরী থেকে সার্চ স্ক্রিনে যেতে হবে যেহেতু এই অপারেটিং সিস্টেমটিতে আমাদের চির চেনা স্টার্ট মেন্যুর বাটনটি নেই। আমি আজকে সেই লুকিয়ে থাকা সিস্টেম ইউটিলাইটিস টুলস গুলোর মাঝে ১০টি নিয়ে আলচোনা করব।
১। Windows Memory Diagnostic
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাঝে একটি মেমরী ডায়গোনাস্টিক টুল আছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটারের র্যামটি ঠিক আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এই টুলটি মূলত জনপ্রিয় সফটওয়্যার MemTest86 এর মতই কাজ করে থাকে। তবে, আপনার যদি আপনার কম্পিউটারের মেমরী তথা র্যামের এরর চেক করার প্রয়োজন হয় তবে আপনাকে থার্ড-পার্টি কোন সফটওয়্যার ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই, উইন্ডোজের এই মেমরী ডায়গোনস্টিক টুলটিই যথেষ্ট। এই টুলটি কীভাবে কাজ করে বা কীভাবে এই টুলটির সাহায্যে র্যামের এরর পরীক্ষা করা যায় তা নিয়ে আমি পূর্বে প্রিয় টেকের টিউটোরিয়াল সেকশনে “কম্পিউটারের র্যাম ঠিক আছে কিনা যাচাই করবেন যেভাবে” নামক একটি লেখা লিখেছিলাম। আপনি ইচ্ছে করলে বা সহজে বোঝার জন্য টিউটোরিয়ালটি দেখে আসতে পারেন।
২। Resource Monitor
এই রিসোর্স মনিটর অ্যাপলিকেশনটি আপনাকে আপনার কম্পিউটারের প্রতিটি হার্ডওয়্যার কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে তা দেখাবে। আপনি আলাদা আলাদা ভাবে আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর, র্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড (ভিডিও মেমরী) , হার্ডডিস্ক – ইত্যাদি কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে তা দেখতে পারবেন। এছাড়াও, এই টুলটির সাহায্যে ঠিক কোন অ্যাপলিকেশনটি বা কোন প্রোসেসটি আপনার কোন একটি হার্ডওয়্যার কম্পোনেন্টের বেশি রিসোর্স ব্যবহার করছে আপনি দেখতে পারবেন। উইন্ডোজের এই সিস্টেম ইউটিলাইটিস টুলটি টাস্ক ম্যানেজারের চাইতেও ডিটেইল ফলাফল দেখাতে সক্ষম। রিসোর্স মনিটর ব্যবহার করার জন্য প্রথমে ‘টাস্ক ম্যানেজার’ খুলুন, এরপর টাস্ক ম্যানেজারের ‘পারফর্মেস্ন’ ট্যাবে ক্লিক করুন এবং সেখান থেকেই আপনি ‘রিসোর্স মনিটর’ ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি স্টার্ট মেন্যু থেকে ‘Resource Monitor’ লিখে সার্চ করেও টুলটি ব্যবহার করতে পারবেন।
৩। Performance Monitor
উইন্ডোজের এই সিস্টেম ইউটিলাইটিস টুলটির সাহায্যে আপনি আপনার কম্পিউটারের পারফর্মেন্স রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং তা দেখতে পারবেন। এই টুলটি ব্যবহারের জন্য আপনি স্টার্ট মেন্যুতে গিয়ে সার্চবারে লিখেও ব্যবহার করতে পারেন অথবা, স্টার্ট মেন্যুতে গিয়ে My Computer অথবা Computer এর উপর মাউসের রাইট-ক্লিক করে ‘manage’ সিলেক্ট করে আসা নতুন উইন্ডো থেকেও পেতে পারেন।
৪। Computer Management and Administrative Tools
উপরে আমি Performance Monitor টুলটি নিয়ে আলোচনা করেছি। মূলত এই টুলটি মাইক্রোসফট ম্যানেজমেন্ট কনসোল (MMC) টুলসের একটি অংশ। এরকম অনেকগুলো টুলস পাওয়া যাবে Administrative Tools এ ফোল্ডারের মাঝেই, কিন্তু এগুলো Computer Management অ্যাপলিকেশনটি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সিঙ্গেল উইন্ডোতেই খোলা যাবে। Computer Management এর মাঝে যে টুল গুলো পাওয়া যাবেঃ • Task Scheduler: আপনি আপনার কম্পিউটারের টাস্ক গুলো করার জন্য শিডিউল তৈরী অথবা এডিট করতে সাহায্য করবে। • Event Viewer: এটি মূলত একটি লগ ভিউয়ার যেটি আপনাকে আপনার কম্পিউটারের সিস্টেম ইভেন্ট গুলো প্রদর্শন করবে যার মধ্যে একটি অ্যাপলিকেশন ইন্সটলেসনের সময়কার তথ্যের সাথে সাথে বিভিন্ন ক্রাশ রিপোর্টও পাবেন আপনি। • Shared Folders: একটি ইন্টারফেইস যার মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারের কোন ফোল্ডার গুলো একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য একটি পিসি থেকে এক্সেস করা যাবে তা দেখাবে। • Device Manager: এটি একটি ক্লাসিক উইন্ডোজ ডিভাইস ম্যানেজার যার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড সকল ডিভাইসগুলো দেখতে পারবেন, সেগুলোকে কনফিগার অথবা ডিস্যাবলও করে দিতে পারবেন। • Disk Management: এটি একটি উইন্ডোজের বিল্ট-ইন পার্টিশন ম্যানেজার যার সাহায্যে আপনি আপনার হার্ড ডিস্ক এর ড্রাইভ গুলো পার্টিশন করতে পারবেন। • Services: এই ইন্টারফেইসের সাহায্যে আপনার কম্পিউটারের ব্যকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা সার্ভিস গুলো দেখতে পারবেন এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন .
৫। Advanced User Accounts Tool
উইন্ডোজের মাঝে একটি লুকানো User Accounts ইউটিলাইটি রয়েছে যেগুলোতে কিছু সুবিধা রয়েছে যা স্ট্যান্ডার্ড User Accounts ইন্টারফেইসে নেই। এটি খোলার জন্য, WinKey+R প্রেস করুন। Run ডায়লগ বক্স উইন্ডো দেখতে পাবেন। লিখুন, netplwiz অথবা control userpasswords2 এবং এন্টার চাপুন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মাঝে Local Users and Groups টুলটি খোলার জন্য একটি শর্টকাট রয়েছে যেটি অধিক ইউজার ম্যানেজমেন্ট টাস্ক প্রোভাইড করে থাকে।
৬। Disk Cleanup
উইন্ডোজের এই ডিস্ক ক্লিন-আপ ইউটিলাইটি-টি অন্যান্য সিস্টেম ইউটিলাইটির মত হিডেন না হলেও অনেকেই এই ডিফল্ট বিল্ট-ইন ফিচারটির কথা জানেন না। এটি আপনার হার্ড ড্রাইভটিকে স্ক্যান করার মাধ্যমে মুছে দেয়া যায় এমন ফাইল খুঁজবে যে ফাইল গুলো টেম্পোরারি ফাইল হিসেবে বা মেমরী ডাম্ব হিসেবে জমা থাকে। এটি অন্যান্য PC cleaning utility ‘র মতই কাজ করে শুধু পার্থক্য হচ্ছে এটি আপনি পাবেন সম্পুর্ন বিনামূল্যে। অ্যাডভান্স ব্যবহারকারীরা হয়তো CCleaner এর কথা বলবেন, তবে Disc Cleanup টুলটিও এর কাজ ভালো ভাবেই করে থাকে। এই টুলটি আপনি সার্চ মেন্যু থেকে Disk Cleanup লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।
0 comments:
Post a Comment